তার চারপাশে ছিল তার প্রিয় মানুষজন:
নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়ের এই অধ্যায়টি আবেগ, আশা, ভালোবাসা এবং অদম্য প্রচেষ্টার এক অনন্য দলিল। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পরও তিনি যেন বারবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। বিশেষ করে ২০/০৩/২০২৬ তারিখটি পরিবারের সবার কাছে এক স্মরণীয় দিন হয়ে আছে—কারণ সেদিন তাকে দেখে মনে হয়েছিল তিনি আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠছেন।
এই দিনটিতে তার চারপাশে ছিল তার প্রিয় মানুষজন। পরিবারের সদস্যরা সবাই তাকে ঘিরে রেখেছিলেন, যেন ভালোবাসার এক অদৃশ্য শক্তি তাকে ঘিরে রেখেছে। তার ছোট মেয়ে এবং বড় ছেলে ঢাকায় থেকে ছুটে এসেছিলেন শুধুমাত্র বাবার পাশে থাকার জন্য। তাদের উপস্থিতি গাহের আলী মন্ডলের মুখে এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়। শুধু সন্তানরাই নয়, তার নাতি-নাতনিরাও ছুটে আসে দাদার কাছে। পুরো পরিবার একত্রিত হওয়ায় ঘরে যেন উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
এই দৃশ্য দেখে গাহের আলী মন্ডল অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ওঠেন। তিনি হাসছিলেন, কথা বলছিলেন, এমনকি মাঝে মাঝে মজার কথাও বলছিলেন—যা দেখে সবাই মনে করেছিল, তিনি আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার এই হাসিখুশি মনোভাব পরিবারের সবাইকে আশাবাদী করে তোলে। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অসুস্থতাকে জয় করে আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তখন নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, যদি তিনি এভাবে সুস্থ থাকতে পারেন, তাহলে হয়তো এবারের ঈদের দিনেও তাকে ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে—যেমনটি তিনি প্রতি বছর করতেন। ঈদের নামাজ আদায় করা ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে এই দিনটি ভাগাভাগি করে নেওয়া ছিল তার এক বিশেষ আনন্দ।
তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম বাবার সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বাবার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করছিলেন। তার এই আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল একজন সন্তানের দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পরিবারের অন্য সদস্যরাও একইভাবে তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সবকিছু দেখে মনে হচ্ছিল, গাহের আলী মন্ডল আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। পরিবার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, আগের মতোই তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। কিন্তু বাস্তবতা কখনো কখনো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিল খায় না।
প্রতিদিন রাতের বেলায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দিনের বেলায় তিনি স্বাভাবিক থাকলেও, রাত হলেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যেত। তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন, কখনো চিৎকার করতেন, কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। এই পরিবর্তন পরিবারকে চিন্তিত করে তোলে, কিন্তু দিনের বেলার তার স্বাভাবিকতা আবার সবাইকে আশাবাদী করে তুলত।
ঈদের আগের রাতেও এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্য রাতের মতো অস্থির না হয়ে তিনি সেদিন ছিলেন শান্ত ও স্থির। তার এই আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আবার আগের মতো হয়ে উঠছেন। এই শান্তভাব পরিবারের মনে এক ধরনের স্বস্তি এনে দেয়, যদিও ভেতরে ভেতরে সবাই উদ্বেগে ছিল।
এই সময়ে তার দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, তারা তাদের বাবার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা বিশ্বাস করতেন, তাদের বাবাকে বাঁচিয়ে রাখা শুধু একটি পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি নাগা বাজারের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা। কারণ গাহের আলী মন্ডল শুধু একজন পিতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি স্বপ্নের রূপকার—নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা।
তার জীবনের আদর্শ ছিল মানুষের জন্য কিছু করা, সমাজকে এগিয়ে নেওয়া এবং একটি স্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলা। তার এই আদর্শ আজও তার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করে। তার দুই ছেলে সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
গাহের আলী মন্ডলের এই জীবনের শেষ অধ্যায়টি আমাদের শেখায়—মানুষের জীবনে ভালোবাসা, পরিবার এবং আশা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থতার মাঝেও তিনি যে আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন, তা ছিল তার পরিবারের উপস্থিতিতে। তার হাসি, তার আনন্দ, তার আশাবাদ—সবকিছুই প্রমাণ করে যে, একজন মানুষের প্রকৃত শক্তি তার প্রিয়জনদের মধ্যে নিহিত।
নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও জীবন্ত। তার অনুপস্থিতিতেও তার আদর্শ, তার কর্ম এবং তার অবদান মানুষকে পথ দেখাবে। তার সন্তানরা এবং পরিবারের সদস্যরা সেই পথ অনুসরণ করে তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করে যাবে।
এই অধ্যায়টি শুধু একজন মানুষের অসুস্থতার গল্প নয়, এটি একটি পরিবারের একত্রিত হওয়ার গল্প, ভালোবাসার গল্প এবং একজন মহান মানুষের আদর্শকে ধরে রাখার অঙ্গীকারের গল্প। গাহের আলী মন্ডল হয়তো শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তার মনোবল, তার হাসি এবং তার আদর্শ ছিল অটুট।
নাগা বাজারের ইতিহাসে তার এই সময়টি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে—যেখানে ভালোবাসা, আশা এবং সংগ্রাম একসঙ্গে মিশে গেছে। তার জীবন আমাদের শিখিয়ে যায়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা হারানো যায় না, এবং পরিবারই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
Naga Bazar Mulivita road
https://maps.app.goo.gl/ocwWJp2XrJNCFuEL8
Naga Bazar Bridge
https://maps.app.goo.gl/GndXDrrmU72KcY6o6
Naga Bazar Birkutsha Road
https://maps.app.goo.gl/9iJLUk7uWSvPtxA99
Naga Shopping and Service Centre
https://maps.app.goo.gl/ZF8gGtehAvviX1Lg7
Naga Bazar Health Centre

