নাগা বাজার–মৌলভীভিটা সড়কের নির্মাণকাজ শুরু

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও জরিপ নিয়ে আপত্তি

প্রকাশের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঘটনাস্থল: নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট, কাতিলা, যোগীপাড়া ইউনিয়ন, বাগমারা, রাজশাহী।

সড়ক নির্মাণের সূচনা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৫ নম্বর যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে মৌলভীভিটার দিকে যাওয়া নাগা বাজার–মৌলভীভিটা সড়কে শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে মাটি খননের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়ন ও নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা, উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক যোগাযোগের পর এই কার্যক্রম এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত, বাজারকেন্দ্রিক যোগাযোগ এবং আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার সঙ্গে সড়কটির উন্নয়ন জড়িত। সড়ক নির্মাণের এই পর্যায়কে তাই স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মণ্ডলের স্বপ্ন ও নাগা বাজারের ইতিহাস

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মণ্ডল এলাকার মানুষের জন্য একটি বাজার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল আশপাশের গ্রামের মানুষ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি স্থানীয় বাজারের সুবিধা পান।

নাগা বাজারের বিকাশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাজারের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাগা বাজার–মৌলভীভিটা সড়কের উন্নয়ন দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অংশ।

তবে সড়কটির বর্তমান নির্মাণপর্যায় প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মণ্ডল দেখে যেতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর পর সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি তাঁর পরিবার ও বাজারের ইতিহাস সংরক্ষণে আগ্রহী স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এটি তাঁর স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত একটি উন্নয়নপ্রক্রিয়ার স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে।

সড়কের পশ্চিম পাশের ভূমি ও জরিপ নিয়ে অভিযোগ

সড়কটির পশ্চিম পাশের জমি, রাস্তার সীমানা এবং কিছু স্থানে বিদ্যমান স্থাপনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ও মতবিরোধের কথা জানা যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, অভিযোগ দাখিল এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কের সীমানা ও জরিপের বিষয়ে চারজন ব্যক্তি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের নাম ও পরিচয় তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিচে উল্লেখ করা হলো:

১। মো. শাহিনুর ইসলাম বাদল, পিতা: মৃত এসা হক মণ্ডল।
২। মো. বাবু মণ্ডল, পিতা: মৃত এসা হক মণ্ডল।
৩। মো. আবদুল মান্নান, পিতা: মৃত আবদুল মোকিম সরদার।
৪। মো. মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা, পিতা: মৃত রমজান আলী মণ্ডল।

উল্লিখিত চারজনের সবার ঠিকানা গ্রাম: কাতিলা, উপজেলা: বাগমারা, জেলা: রাজশাহী।

এখানে উল্লেখ্য, জরিপের বিষয়ে আপত্তি জানানো এবং সরকারি রাস্তার জমি দখল করার অভিযোগ এক বিষয় নয়। জমির মালিকানা, রাস্তার সঠিক সীমানা, বিদ্যমান স্থাপনার অবস্থান এবং সরকারি নকশার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার সামঞ্জস্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রয়োজন। তাই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে নিরপেক্ষ জরিপ ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগকারী ও স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীদের বক্তব্য

স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সড়কের সীমানা ও জরিপ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযোগকারী এবং স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১। মো. আবদুল মতিন, পিতা: মো. মজিবুর রহমান খান।
২। মো. আবদুল আলীম, পিতা: মরহুম গাহের আলী মণ্ডল।
৩। মো. গোলাম মোস্তফা, পিতা: মরহুম গাহের আলী মণ্ডল।
৪। মো. সাজেদুর রহমান সরদার, পিতা: মরহুম আজিজুর রহমান সরদার (কিনু)।

অভিযোগকারী মো. সাজেদুর রহমান সরদার সড়কের সীমানা ও সংশ্লিষ্ট জমির অবস্থান সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিষয়বস্তু, সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, সরকারি রাস্তার নকশা এবং জরিপের ফলাফল যাচাই করা হলে বিরোধের প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীরা আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং পুলিশের কাছে যোগাযোগ, আবেদন বা অভিযোগ দাখিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব যোগাযোগের উদ্দেশ্য হিসেবে সড়কের সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যা নিরসন এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর লিখিত সিদ্ধান্ত, জরিপ প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই না করে কোনো পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

নিরপেক্ষ জরিপ ও প্রশাসনিক সমাধানের গুরুত্ব

জনস্বার্থে সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি নকশা, অনুমোদিত সীমানা, ভূমির রেকর্ড এবং বাস্তব অবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। সড়কের কোনো অংশের অবস্থান বা জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ পরিমাপ ও নথি যাচাই সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে।

একই সঙ্গে জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তাঁকে প্রযোজ্য প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থ বিবেচিত হয়, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত অধিকারও যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকে।

সড়ক নির্মাণের অগ্রগতি এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা, অনুমোদিত নকশা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতে এই এলাকার ইতিহাস ও উন্নয়নপ্রক্রিয়া বোঝার জন্য সহায়ক হবে।

প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে বিরোধের আংশিক নিষ্পত্তি, নির্মাণকাজ চলমান

নাগা বাজার–মৌলভীভিটা সড়কের পশ্চিম পাশের জমি, রাস্তার সীমানা ও জরিপ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনগণের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় বিরোধের প্রায় ৮০ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ২০ শতাংশ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে, আংশিক সমঝোতার ভিত্তিতে নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে মৌলভীভিটার দিকে সড়ক নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাগা বাজার জিরো পয়েন্টে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে মাটি খননের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিনের আলোচনা, অভিযোগ, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও স্থানীয় উদ্যোগের পর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে সড়কটির উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বিরোধের অবশিষ্ট অংশের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, রাস্তার সঠিক সীমানা এবং সংশ্লিষ্ট জমির অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথি, জরিপের ফলাফল ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব রয়েছে। যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।

এই ঘটনায় প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনস্বার্থে সড়ক নির্মাণ এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায্য নিষ্পত্তি—উভয় বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এলাকার ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে সমঝোতার বিবরণ, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত রাখা প্রয়োজন।

উপসংহার

২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাগা বাজার জিরো পয়েন্টে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে নাগা বাজার–মৌলভীভিটা সড়কের মাটি খননের কার্যক্রম শুরু হওয়া স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মণ্ডলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, সড়ক নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় উদ্যোগ এবং জমির সীমানা ও জরিপ-সংক্রান্ত মতবিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকার সামাজিক ও অবকাঠামোগত ইতিহাসের অংশ।

সড়কটির নির্মাণকাজ সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি নথি যাচাই এবং আইনসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঘটনার সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হলে প্রত্যক্ষ তথ্য, লিখিত নথি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা উচিত।

সংরক্ষণ–সংক্রান্ত তথ্য

  • বিষয়: নাগা বাজার–মৌলভীভিটা সড়ক নির্মাণ ও সীমানা-সংক্রান্ত অভিযোগ।
  • স্থান: নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট, কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
  • ঘটনার তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬।
  • ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মণ্ডলের বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন।
  • তথ্যের ভিত্তি: স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণকারীদের দেওয়া বিবরণ; অভিযোগ, জরিপের ফলাফল ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
Share Now