আমি যদি মারা যাই, তাহলে তোমরা বুঝবে তোমরা কী হারালে:
নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যাঁর জীবন ছিল সরলতা, মানবতা ও সমাজসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না; বরং বিনয়, সহানুভূতি ও মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা তাঁকে সবার প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি সবসময়ই চেয়েছেন মানুষের জন্য কিছু করতে, বিশেষ করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।
গাহের আলী মন্ডল ছিলেন একজন সমাজসেবক, যিনি নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে সবসময় সমাজের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাজার গড়ে তোলা, যেখানে স্থানীয় বেকার মানুষ কাজের সুযোগ পাবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। এই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি “নাগা বাজার” উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় বাজারটি চালু হয়। এটি শুধু একটি বাজার নয়, বরং একটি স্বপ্নের প্রতিফলন, যা মানুষের জীবন পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
গাহের আলী মন্ডল সবসময় বিশ্বাস করতেন, একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার সম্পদে নয়, বরং তার কাজ ও মানবিকতায়। তাই তিনি সর্বদা চেষ্টা করতেন সমাজের অসহায় ও বেকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। তাঁর এই চিন্তাধারা থেকেই নাগা বাজারের জন্ম, যা আজও এলাকার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও পূর্ণভাবে সুস্থ ছিলেন না। তিনি ভাত খেতে পারতেন না, তবে ফলমূল ও তরল খাবার গ্রহণের চেষ্টা করতেন। তাঁর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বারবার পানি ও ভাত খেতে চাইতেন, যা তাঁর জীবনের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ। তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশা ছাড়েননি।
তাঁর মুখে প্রায়ই শোনা যেত একটি কথা—“আমি যদি মারা যাই, তাহলে তোমরা বুঝবে তোমরা কী হারালে।” এই কথার মধ্যেই তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি মানুষের ভালোবাসার উপলব্ধি ফুটে ওঠে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ঘরোয়া চিকিৎসায় আর কিছু করার ছিল না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব পরিবার থেকে সেবা দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় হওয়ায় পরিবার তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, বরং বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যায়।
এই কঠিন সময়ে তাঁর ছোট মেয়ে মোছাঃ আকলিমা বেগম তাঁর খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। বড় মেয়ে মোছাঃ সুরজান বিবি সময় সময় এসে তাঁর দেখাশোনা করেছেন। তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম, যিনি একজন ফার্মাসিস্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা ও যত্নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। পরিবারের সকল সদস্য তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য।
যেহেতু তিনি আবাসিক বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন, তাই তাঁর ছোট ছেলে মোঃ গোলাম মোস্তফা
দেখাশোনা করছিল। মোস্তফার অবদান অনস্বীকার্য।
অবশেষে, ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে এই মহান ব্যক্তিত্ব পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু তাঁর পরিবার নয়, পুরো নাগা বাজার এলাকা একজন অভিভাবক ও পথপ্রদর্শককে হারিয়েছে।
গাহের আলী মন্ডলের স্বপ্ন ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বাজার গড়ে তোলা, যেখানে বেকার মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি সেই স্বপ্নের কিছুটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন, কিন্তু সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তবে তাঁর এই অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য তাঁর দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাঁরা তাঁদের পিতার আদর্শ ও স্বপ্নকে সামনে রেখে নাগা বাজারকে আরও উন্নত ও কার্যকর করে তুলতে চান।
গাহের আলী মন্ডলের জীবন আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়েছেন, একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ কিছু করতে পারে, যদি তার মধ্যে থাকে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও মানুষের জন্য ভালোবাসা। তাঁর কর্ম, চিন্তা ও আদর্শ আমাদের সমাজের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নাগা বাজার শুধু একটি বাজার নয়, এটি গাহের আলী মন্ডলের স্বপ্ন, তাঁর পরিশ্রম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। তিনি না থাকলেও তাঁর স্বপ্ন বেঁচে থাকবে, তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে, এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত নাগা বাজার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে চিরকাল।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
Naga Bazar
https://maps.app.goo.gl/R8gRUMwFJNwEd5vb8
Naga Bazar Zero Point
https://maps.app.goo.gl/UXP82tnEXjGjkt5W6
Naga Vila
https://maps.app.goo.gl/BTJ8nHxzMFjfu67u7
https://maps.app.goo.gl/BTJ8nHxzMFjfu67u7
Naga Bazar Health Centre

