পবিত্র ঈদের দিন, যা আনন্দের হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিণত হয়েছিল নিঃশব্দ বেদনা ও অপূর্ণতার প্রতিচ্ছবিতে:
নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়গুলো ছিল গভীর বেদনা, সংগ্রাম এবং পরিবারের ভালোবাসায় ঘেরা এক আবেগময় অধ্যায়। এই পর্বে ফুটে ওঠে এক বিশেষ দিনের কথা—পবিত্র ঈদের দিন, যা আনন্দের হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর পরিবারে তা পরিণত হয়েছিল নিঃশব্দ বেদনা ও অপূর্ণতার প্রতিচ্ছবিতে।
ঈদের সেই সকালটি ছিল কিছুটা মেঘলা। আকাশ যেন নিজের মতো করে শোক প্রকাশ করছিল। পরিবারের সবার মনেই ছিল এক ধরনের ভারী অনুভূতি। কারণ, এই প্রথমবারের মতো ঈদের নামাজে গাহের আলী মন্ডল উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি তখন শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ, বিছানায় শায়িত। তাঁর দুই ছেলে—মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা—মনে গভীর কষ্ট নিয়েই ঈদগাহ ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
মোঃ আব্দুল আলীম তাঁর ছেলে মোঃ শাদমান শাবাবকে সঙ্গে নিয়ে এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা তাঁর ছেলে মোঃ মিনহাজকে নিয়ে ঈদগাহ ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়। নামাজ শেষে সবাই একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। ছোট্ট মিনহাজ ও শাদমান শাবাবও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগাভাগি করছিল। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও কোথাও যেন এক গভীর শূন্যতা ছিল—তাদের প্রিয় দাদা গাহের আলী মন্ডলের অনুপস্থিতি।
গত ঈদে গাহের আলী মন্ডল নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর নাতিদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে উঠেছিলেন। সেই স্মৃতিগুলো যেন এদিন আরও বেশি করে মনে পড়ছিল। আজ সেই দৃশ্য নেই, নেই সেই হাসি, নেই সেই উচ্ছ্বাস—সবকিছুই যেন থমকে গেছে।
ঈদের নামাজ শেষে তাঁরা পরিবারের কবরস্থানে যান এবং প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য দোয়া করেন। তারপর নীরবে বাড়ির পথে ফিরে আসেন। বাড়িতে ফিরে দেখেন, গাহের আলী মন্ডল বিছানায় শুয়ে আছেন, খুবই দুর্বল অবস্থায়। এই দৃশ্য তাঁদের হৃদয়কে আরও ভারাক্রান্ত করে তোলে। সবাই মনে মনে ভাবছিল—“আজকের দিনটি কতটা দুর্ভাগ্যের!”
ঈদের দিনটি সাধারণত আনন্দ, হাসি আর ভালোবাসায় ভরা থাকে। কিন্তু সেই দিনটি ছিল ভিন্ন। পরিবারের সবাই নীরবে খাবার গ্রহণ করছিলেন, খুব সামান্য পরিমাণে। কেউ ঠিকমতো খেতে পারছিলেন না। সবাই চেষ্টা করছিলেন গাহের আলী মন্ডলকে কিছু খাওয়ানোর, কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি স্বাভাবিকভাবে কিছু গ্রহণ করতে পারছিলেন না।
১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে। তিনি শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং মুখে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। এর আগের দিন, ১৭ মার্চ, তিনি হঠাৎ করেই বিছানায় পড়ে যান। এরপর দিন দিন তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল।
এই কঠিন সময়ে তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম, যিনি একজন ফার্মাসিস্ট, বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান বাবার যত্ন নেওয়ার জন্য। তাঁর এই দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়।
গাহের আলী মন্ডল শুধু একজন পরিবারের প্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাজার গড়ে তোলা, যা নাগা বাজার এলাকার বেকার মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনেকটা এগিয়েছিলেন। নাগা বাজার আজ যে অবস্থানে রয়েছে, তার পেছনে তাঁর পরিশ্রম, ত্যাগ ও দূরদৃষ্টির বড় ভূমিকা রয়েছে।
তবে তাঁর সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার আগেই তিনি ২৪ মার্চ ২০২৬, বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো নাগা বাজার এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর দুই ছেলে—মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা—এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাঁরা তাঁদের বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চান। তাঁরা চান নাগা বাজারকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে, যেন এটি সত্যিই এলাকার মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদ হয়ে ওঠে।
ঈদের সেই দিনটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব ছিল না; এটি ছিল ভালোবাসা, স্মৃতি, বেদনা ও প্রতিজ্ঞার এক অনন্য মিশ্রণ। গাহের আলী মন্ডলের স্মৃতি আজও তাঁর পরিবারের হৃদয়ে জীবন্ত, আর তাঁর স্বপ্ন তাদের পথ দেখিয়ে চলেছে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
Naga Bazar Mulivita Road
https://maps.app.goo.gl/KshxFbRnuL2S1jNeA
Naga Bazar Birkutsha road
https://maps.app.goo.gl/RXybT1ZCr2qTPUcV6
Naga bazar Bridge
https://maps.app.goo.gl/orRTe5HsZRgjnpB79
Messar’s D.K. Pharmacy
https://maps.app.goo.gl/xkP27618fpwhYAHw8
Symbolic pic for EID day 2026

