মোঃ আব্দুল আলীম: আমার ৪৫তম জন্মদিন

আমি যখন অতীতের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি জীবন কতটা অনিশ্চিত:

আজ ০৭/০৫/২০২৬। আমার জীবনের ৪৫তম জন্মদিন। সাধারণত জন্মদিন মানেই আনন্দ, শুভেচ্ছা, হাসি আর পরিবারের মানুষের ভালোবাসায় ভরা কিছু মুহূর্ত। কিন্তু আজকের দিনটি আমার কাছে একেবারেই ভিন্ন। চারদিকে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা। নেই কোনো আয়োজন, নেই কোনো আনন্দঘন পরিবেশ। শুধু স্মৃতি আর শূন্যতার অনুভূতি বারবার হৃদয়কে ভারী করে তুলছে।

১৯৮২ সালের ০৭ মে আমি জন্মগ্রহণ করি। আমার জন্মের পরপরই পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক। আমি তখন সদ্যোজাত শিশু, কিছুই বুঝতে পারতাম না। কিন্তু পরে বড় হয়ে জানতে পারি, আমার জন্মের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই আমার দাদা কসির উদ্দিন মন্ডল এবং দাদী উপজান বিবি ইন্তেকাল করেন। পৃথিবীতে আসার পরপরই যেন জীবনের কঠিন বাস্তবতা আমার পরিবারের উপর নেমে এসেছিল। সেই সময়ের স্মৃতিগুলো আমি অনুভব করতে না পারলেও পরিবারের মানুষের কষ্টের গল্প শুনে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে যায়।

সময়ের সাথে সাথে জীবন এগিয়ে গেছে। কিন্তু প্রিয়জন হারানোর বেদনা বারবার আমাকে আঘাত করেছে। ০১/০৬/২০১০ সালে আমার বড় আম্মা ফাতেমা বেগম, যিনি বাহার আলী( আমার বড় আম্মা ) মন্ডলের স্ত্রী ছিলেন, ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এরপর ০৬/০৭/২০১৩ সালে আমার বড় আব্বা বা জ্যাঠা বাহার আলী মন্ডল মারা যান। তিনিও ছিলেন পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তখন মনে হয়েছিল পরিবার থেকে যেন এক একটি ছায়া সরে যাচ্ছে।

তারপর ২৭/০১/২০১৬ সালে আমার আরেক বড় বাবা বা জ্যাঠা তাহের আলী মন্ডল মৃত্যুবরণ করেন। একের পর এক প্রিয়জন হারানোর শোক আমাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছিল। তবুও জীবন থেমে থাকে না। মানুষকে সব বেদনা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

কিন্তু ২৪/০৩/২০২৬ তারিখটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শোকের দিন হয়ে আসে। সেদিন আমার প্রিয় বাবা, নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, সৎ এবং পরিশ্রমী একজন মানুষ। পরিবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। আমার জীবনের প্রতিটি জন্মদিনে তিনি আমাকে সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতেন। তাঁর মুখের সেই হাসি, সেই আন্তরিকতা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

আজ বাবা নেই। মাত্র দুই মাস আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাই এবারের জন্মদিনে আনন্দ খুঁজে পাওয়া আমার জন্য খুব কঠিন। মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হারিয়ে ফেলেছি। ঘরের প্রতিটি কোণে তাঁর স্মৃতি, তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর উপস্থিতি যেন আজও অনুভব করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি আর নেই।

আমি যখন অতীতের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি জীবন কতটা অনিশ্চিত। জন্মের পর থেকেই প্রিয়জন হারানোর বেদনা যেন আমার জীবনের সঙ্গী হয়ে আছে। তবুও মহান আল্লাহ মানুষকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দেন। আজ আমার একটাই প্রার্থনা—আল্লাহ যেন আমার বাবা, মা, দাদা এবং সকল মৃত আত্মীয়স্বজনকে জান্নাত নসিব করেন। আর আমাকে ধৈর্য ও শক্তি দেন যেন আমি এই শোক কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

আজকের জন্মদিন তাই আনন্দের নয়, বরং স্মৃতিময় এক নীরব দিন। তবুও আমি বিশ্বাস করি, জীবনের প্রতিটি কষ্টের মাঝেও আল্লাহর রহমত লুকিয়ে থাকে। মানুষ হারিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ভালোবাসা ও স্মৃতি চিরকাল হৃদয়ে বেঁচে থাকে।

সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।

Naga Bazar Bridge

https://maps.app.goo.gl/K25DZ7ZKHS8PTWhB7

Naga Bazar Mulivita Road

https://maps.app.goo.gl/NZZD9jjvNwsBKxmY9

Messar’s D.K. Pharmacy

https://maps.app.goo.gl/kKxzcgyikqj7KXfN8

Messar’s Mokseda Pharmacy

https://maps.app.goo.gl/URpJNf3b7bbeShxa8

Naga Bazar Tech Centre

Share Now
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *