২০ মার্চ ২০২৬ রাতের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়গুলো ছিল একদিকে সংগ্রামের, অন্যদিকে অবিচল আত্মবিশ্বাস ও আশার প্রতীক। বিশেষ করে ২০/০৩/২০২৬ তারিখের ঘটনাগুলো তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা, মানসিক শক্তি এবং জীবনের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
সেই সময় গাহের আলী মন্ডল শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল ছিলেন, তবে মানসিকভাবে তিনি ছিলেন অদম্য। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন যে, তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। অতীতেও তিনি দুই থেকে তিনবার গুরুতর অসুস্থতা থেকে ফিরে এসেছিলেন—এই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছিল। তাঁর মনে সবসময় একটি চিন্তাই ঘুরপাক খেত—“কীভাবে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া যায়।”
২০ মার্চ ২০২৬ রাতের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেদিন পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন যে, যেকোনোভাবে তাঁকে ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে তিনি ঈদের আনন্দ ও মানুষের ভালোবাসা অনুভব করতে পারেন। যখন তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। আবারও জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন পার্থিব চিন্তা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে তাঁর চোখেমুখে ছিল সুস্থ হয়ে ওঠার এক গভীর আকাঙ্ক্ষা।
তাঁর এই অবস্থার মধ্যেও যখনই চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হতো, তিনি তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করতেন। যেন মনে মনে বিশ্বাস করতেন—এই চিকিৎসাই তাঁকে আবার সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলবে। তাঁর এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অনেক সময় পরিবারের সদস্যদেরও আশাবাদী করে তুলত। তাঁর পরিবারও বিশ্বাস করত, আগের মতো এবারও তিনি ফিরে আসবেন সুস্থ জীবনে।
ঈদগাহ ময়দানে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এটি ছিল তাদের জন্য এক গভীর আক্ষেপের বিষয়। বিশেষ করে তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তিনি বাবাকে ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যেতে পারবেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে তিনি চিকিৎসকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করে বাবার চিকিৎসার সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
২০/০৩/২০২৬ তারিখে গাহের আলী মন্ডলের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই সামান্য উন্নতিই পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। সবাই মনে করতে শুরু করে—হয়তো আগের মতো এবারও তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। বিশেষ করে ঈদের সময় হওয়ায় পরিবারের প্রায় সকল সদস্য তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। এই সময়টিতে সবাই একত্রিত হয়ে তাঁর যত্ন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তাদের জন্য একদিকে সৌভাগ্যের, অন্যদিকে আবেগঘন একটি সময়।
ঈদের ছুটিতে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনরা তাঁর সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি কথা বলতে না পারলেও অস্পষ্ট শব্দ এবং হাত নেড়ে ইশারার মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করতেন—সবাই যেন তাঁর কাছে আসে। তাঁর এই ইশারা যেন ছিল শেষ বিদায়ের আহ্বান। সেই মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, তবে একইসাথে ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।
গাহের আলী মন্ডল ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নাগা বাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজার হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে এলাকার বেকার মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেননি।
তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন তাঁর সন্তানদের উপর বর্তায়। তাঁর দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, তারা তাদের বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে। তারা নাগা বাজারের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে, যাতে গাহের আলী মন্ডলের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। ঈদের এই সময়টিতে সবাই একসাথে থাকার কারণে তাঁকে যত্ন নেওয়া আরও সহজ হয়েছিল। এটি তাদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত, যা তারা সারাজীবন স্মরণে রাখবে।
সবশেষে বলা যায়, গাহের আলী মন্ডলের জীবনের এই অধ্যায় আমাদের শিখিয়ে যায়—আশা কখনো হারানো উচিত নয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন যে, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাঁর এই অদম্য মানসিকতা, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন তাঁকে একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করে।
তাঁর জীবন শুধু একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং এটি একটি প্রেরণার উৎস—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং মানবসেবার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
Naga Bazar:
https://maps.app.goo.gl/hx9ibLs3HDDzTgyHA
Naga Bazar Zero Point:
https://maps.app.goo.gl/jms4fMLLP4YopGt69
Naga Vila:
https://maps.app.goo.gl/ngS7ffujk75iRHua8
Naga Shopping and Service Centre
https://maps.app.goo.gl/YGCpXUbrxjfhsUdF7
Naga Bazar Health Centre
